নিউজ ডেস্ক(খবর7দিন প্লাস):- মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণালি অধ্যায় রচনার পথে নাসা। আগামী ৬ মার্চ চাঁদের কক্ষপথে যে চারজন বীর অভিযাত্রী পাড়ি দিতে চলেছেন, তাঁদের ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। এই মিশনের চারজন সদস্য রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনন্য মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। মিশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অভিজ্ঞ রিড ওয়াইজম্যান, যাঁর নেতৃত্বে ওরিয়ন মহাকাশযানটি পরিচালিত হবে। অন্যদিকে, পাইলট হিসেবে ইতিহাস গড়তে চলেছেন ভিক্টর গ্লোভার, যিনি হতে যাচ্ছেন চাঁদের কক্ষপথে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী।
এই মিশনের অন্যতম আকর্ষণ ক্রিস্টিনা কচ, যিনি মহাকাশে দীর্ঘতম সময় কাটানো নারী হিসেবে বিশ্বরেকর্ডধারী। মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি নারী শক্তির এক অনন্য জয়গান। চারজনের এই দলে কানাডার প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন জেরেমি হ্যানসেন। বহু বছরের কঠোর শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষণের পর তাঁরা এই বিপজ্জনক অথচ রোমাঞ্চকর অভিযানের জন্য মনোনীত হয়েছেন। লুনার মডিউল পরিচালনা থেকে শুরু করে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মহাকাশযানের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত সব কিছুতেই তাঁরা এখন সিদ্ধহস্ত।
নাসার তথ্যমতে, এই অভিযাত্রীরা গত কয়েক মাস ধরে সিমুলেটর যন্ত্রের মাধ্যমে হাজার হাজার ঘণ্টা মহাকাশ ভ্রমণের মহড়া দিয়েছেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবনদায়ী ব্যবস্থাগুলো পরীক্ষা করা এবং গভীর মহাকাশে মানুষের বেঁচে থাকার সক্ষমতা যাচাই করা। চাঁদের অন্ধকার পিঠ ছাড়িয়ে যখন তাঁরা পৃথিবীর চোখের আড়ালে চলে যাবেন, তখন কেবল নিজেদের সাহস আর বিজ্ঞানের ওপর ভরসা করেই তাঁদের ফিরে আসতে হবে। এই চার অভিযাত্রীর প্রতিটি পদক্ষেপ কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং মানবজাতির পরবর্তী প্রজন্মের মঙ্গল অভিযানের প্রথম সোপান।

