আগুনে পুড়িয়ে অশুভের বিদায়: "পানাগড় রণডিয়া মোড় দুর্গাপূজা কমিটির"পক্ষ থেকে শাস্ত্রমতে পালিত হলো ন্যাড়া পোড়া বা হোলিকা দহন

নিজস্ব সংবাদদাতা,পানাগড়(খবর7দিন প্লাস):- “আজ আমাদের ন্যাড়া পোড়া, কাল আমাদের দোল, পূর্ণিমাতে চাঁদ উঠেছে, বল হরি বোল” এই চিরাচরিত প্রবাদকে সামনে রেখেই প্রতি বছরের মতো এ বছরও পানাগড়ে পালিত হল ন্যাড়া পোড়া বা হোলিকা দহন। দোল উৎসবের আগের সন্ধ্যায় ফাল্গুনী পূর্ণিমার গোধূলি লগ্নে এই আচারকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয় গোটা এলাকাজুড়ে।

সোমবার সন্ধ্যায় পানাগড় বাজারের রনডিহা মোড় সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় "রণডিহা মোড় দুর্গাপূজা কমিটির" উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় হোলিকা দহন। নির্দিষ্ট সময় ও বিধি মেনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পুজো কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি এলাকার বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর একে অপরকে আবির মেখে দোল ও হোলির আগাম শুভেচ্ছা জানান সকলেই।

ন্যাড়া পোড়া বা হোলিকা দহন এরপৌরাণিক তাৎপর্য:-হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, হোলিকা দহন মূলত অসুররাজ হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকার দহনকেই স্মরণ করে পালিত হয়। ভগবান বিষ্ণুর পরম ভক্ত প্রহ্লাদকে আগুনে পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্র করেছিলেন হিরণ্যকশিপু। অগ্নিতে অক্ষত থাকার বরপ্রাপ্ত হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে অগ্নিকুণ্ডে বসেন। কিন্তু ভক্তির জোরে প্রহ্লাদ রক্ষা পান এবং হোলিকার দহন হয়। এই ঘটনাই ‘অশুভের বিনাশ ও শুভ শক্তির জয়’-এর প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত।

আচার ও বিশ্বাস:-ন্যাড়া পোড়া কেবল খড়কুটো জ্বালানো নয়; শাস্ত্রমতে এটি জীবনের অশুভ শক্তি, নেতিবাচকতা ও অন্ধকার দূর করার এক প্রতীকী পর্ব। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, অগ্নিকুণ্ডে নির্দিষ্ট কিছু সামগ্রী যেমন পুরনো অশুভ বস্ত্র, শুকনো ডালপালা বা প্রতীকী উপকরণ অর্পণ করলে বাস্তুদোষ নিবারণ হয় এবং পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি ফিরে আসে।

সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা:-পানাগড়ে ন্যাড়া পোড়া কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামাজিক মিলনোৎসবেরও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। শিশু থেকে প্রবীণ সকলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে সম্প্রীতির প্রতীক। আগুনের উষ্ণতায় পুরনো বিদ্বেষ ভুলে আগামী দিনের আনন্দময় দোল উৎসবকে স্বাগত জানানোর বার্তাই উঠে আসে এই আচার থেকে।

দোলের রঙে রাঙানোর আগে ন্যাড়া পোড়ার বা হোলিকা দহন এর আগুন যেন মনে করিয়ে দেয় অশুভকে পুড়িয়ে ফেলেই শুরু হোক নতুনের আহ্বান।

নবীনতর পূর্বতন