নিজস্ব সংবাদদাতা,(খবর7দিন প্লাস):- এটাই স্বাভাবিক। একবার 'এনকাউন্টার' চালু হলে বিভিন্ন জায়গা থেকে এবার এনকাউন্টারের দাবি উঠবে। এবার অভিয়ার মা সেই দাবি তুললেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের আমলে ধর্ষণের মতো নারীর উপর চরম নির্যাতনের ঘটনার অভিযোগ পাওয়ামাত্রই অ্যাকশন নিচ্ছে পুলিশ। প্রথমে গ্রেপ্তারি, বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি করলেই সোজা এনকাউন্টার। মাস খানেক আগে বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল এভাবে। আর মঙ্গলবার ভোরে গাইঘাটাতেও ঘটল একই ঘটনা। দুই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিধায়ক রত্না দেবনাথ বললেন, তাঁর মেয়ে অর্থাৎ অভয়ার অপরাধীদেরও পরিণতি হোক এমনই। ২০২৪ সালের আগস্টে কর্তব্যরত অবস্থায় আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার হয় তরুণী গবেষক-চিকিৎসকের দেহ। তাঁকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়। এই ঘটনার জল গড়িয়েছিল বহু দূর। সিবিআই তদন্তের পর সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে নির্যাতিতার পরিবার পরে তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করায় মামলা রি-ওপেন হয়।
এখন সিবিআই আর জি কর কাণ্ডের পুনর্তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে মেয়ের প্রতি হওয়া নৃশংসতার বিরুদ্ধে লড়ে ন্যায়বিচার পেতে রাজনীতিতে এসেছেন নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। তিনি এখন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক। ধর্ষণের ঘটনায় এনকাউন্টারের পক্ষেই সওয়াল করলেন বিধায়ক।মঙ্গলবার গাইঘাটায় ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস পুলিশের এনকাউন্টারে নিকেশের খবর শুনে রত্নাদেবীর প্রতিক্রিয়া, ‘‘আগেকার সরকার ধর্ষণে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। বর্তমান সরকার বিচারের রাস্তা তৈরি করছে। এমন জঘন্য কাজ যারা করে, তাদের বাঁচিয়ে রেখে লাভ কী? এনকাউন্টারই এদের জন্য ঠিক। আমি চাই, আমার মেয়ের অপরাধীদেরও এই পরিণতি হোক। যত এরকম হবে, তত ওরা ভয় পাবে।” এর আগে বারুইপুরের ঘটনায় অভিযুক্তকে এনকাউন্টার নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি রত্নাদেবী। উলটে ওই মেয়েটির পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের মেয়ের শ্রেণিগত অবস্থানের ফারাক করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু গাইঘাটা নিয়ে তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে কি আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়েছেন অভয়ার মা? এই প্রশ্নও উঠছে।

