প্রায় এক বছর পর জ্বলে উঠল পথবাতি, আলোকিত হয়ে উঠল পানাগড়ের দার্জিলিং মোড় থেকে রণডিহা মোড় পর্যন্ত

 

নিজস্ব সংবাদদাতা,কাঁকসা(খবর7দিন প্লাস):-
প্রায় এক বছর ধরে কাজ সম্পন্ন হলেও বিদ্যুতের বিল নিয়ে জটিলতার কারণে জ্বলে উঠছিল না পথবাতি। অবশেষে এক ব্যবসায়ীর উদ্যোগে সেই সমস্যার সমাধান হল। শুক্রবার সন্ধ্যায় কাঁকসার প্রয়াগপুর মোড়ে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও সুইচ অন করে পানাগড়ের দার্জিলিং মোড় থেকে গ্রামবাংলা হোটেল পর্যন্ত পুরাতন জাতীয় সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশে পথবাতি জ্বালানোর সূচনা করা হল।

জানা গেছে, গত এক বছর আগে আসানসোল দুর্গাপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (ADDA) আর্থিক সহযোগিতায় পানাগড় গ্রাম থেকে গ্রামবাংলা হোটেল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তায় পথবাতি বসানো হয়। তবে পানাগড় গ্রাম থেকে দার্জিলিং মোড় পর্যন্ত বাতি জ্বলে উঠলেও দার্জিলিং মোড় থেকে গ্রামবাংলা হোটেল পর্যন্ত অংশে বিদ্যুতের বিল কে দেবে তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সেই বাতিগুলি এতদিন অন্ধকারেই ছিল।

অবশেষে পানাগড় বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এগিয়ে এসে আগামী কয়েক বছর পথবাতির বিদ্যুতের অধিকাংশ খরচ বহনের আশ্বাস দেন। এরপরই দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে পথবাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, আসানসোল দুর্গাপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান কবি দত্ত, কাঁকসার বিডিও সৌরভ গুপ্ত, কাঁকসা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমনা সাহা, ত্রিলোকচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জ্যোৎস্না বাগদি, উপ-প্রধান প্রসেনজিৎ ঘোষ, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কীর্তি আজাদ ঝাঁ, কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য দেবদাস বক্সী, নবকুমার সামন্ত ও পিরু খান-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান, প্রায় এক বছর আগে কাজ সম্পূর্ণ হলেও বিদ্যুতের বিল সংক্রান্ত সমস্যার কারণে পথবাতি জ্বালানো সম্ভব হচ্ছিল না। এক ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে বিদ্যুতের অধিকাংশ খরচ বহনের আশ্বাস দেওয়ায় সমস্যার সমাধান হয়। এর আগে পুরাতন জাতীয় সড়কের কিছু অংশে পথবাতি জ্বালানো হয়েছিল, এবার বাকি অংশেও আলো জ্বালিয়ে গোটা পানাগড় বাজারকে আলোকিত করা হল। আগামী দিনে পানাগড় বাজারে আরও উন্নয়নমূলক কাজ হবে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ADDA-র চেয়ারম্যান কবি দত্ত পানাগড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রায় এক বছর আগে ব্যবসায়ী সমিতিকে পথবাতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। ফলে কাজ সম্পন্ন হলেও বাতি জ্বলেনি এবং সরকারের বদনাম হচ্ছিল। তবে যে ব্যবসায়ী এগিয়ে এসে বিদ্যুতের খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছেন তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, যতদিন তিনি সাহায্য করতে পারবেন করবেন, এরপর বিকল্পভাবে পঞ্চায়েত সমিতি এই দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হওয়ায় এবং গোটা পানাগড় বাজার আলোকিত হয়ে ওঠায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

নবীনতর পূর্বতন