জয়ন্ত মন্ডল,নানুর,(খবর7দিন প্লাস):-বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বীরভূমের মাটিতে প্রচারে গতি বাড়াল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার(১ এপ্রিল) নানুরে পাপুড়ি আল আমিন মিশন ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শাসক দলের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন। এটি বীরভূমে তাঁর দ্বিতীয় জনসভা।
বসন্তের তপ্ত দুপুরেও জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। সভার শুরুতেই উপস্থিত জনতাকে নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বীরভূমের লাল মাটির সঙ্গে নিজের আবেগের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, “আমি ধান কাটতেও পারি, ধান বুনতেও পারি।”
সভামঞ্চ থেকেই তিনি জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। নানুরে বিধানচন্দ্র মাঝি, বোলপুরে চন্দ্রনাথ সিংহ, হাসনে ফায়েজুল হক (কাজল শেখ), লাভপুরে অভিজিৎ সিংহ, দুবরাজপুরে নরেশচন্দ্র বাউরী এবং রামপুরহাটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে ভোট চান তিনি।
ভাষণে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “তৃণমূল যা বলে, তা করে।” যুব সমাজের উদ্দেশ্যে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের উল্লেখ করে আশ্বাস দেন, সকলেই সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যতে রাজ্যে আর কোনও কাঁচা বাড়ি থাকবে না এবং প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে যাবে পরিশ্রুত পানীয় জল।
প্রতিপক্ষ বিজেপিকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর অভিযোগ, “ভুল করে কারও হাতে অ্যাকাউন্টের তথ্য তুলে দেবেন না, টাকা তুলে নিতে পারে।” বিজেপির ‘চক্রান্ত’ নিয়ে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
আসন্ন নির্বাচনকে তিনি “অধিকার রক্ষার লড়াই” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, “মা-বোনেরা, ভোটটা দেবেন তো?”—যা মুহূর্তে সভাস্থলে সাড়া ফেলে।
সব মিলিয়ে, নানুরের সভা থেকে উন্নয়ন ও রাজনৈতিক বার্তার মিশেলে নির্বাচনী প্রচারে স্পষ্টতই আগ্রাসী সুরে দেখা গেল তৃণমূল নেত্রীকে।



