আমি ভবানীপুরে না জিতলে চন্দ্রনাথকে খুন হতে হতো না” বিস্ফোরক শুভেন্দু, চন্দ্রনাথ হত্যায় চাঞ্চল্য

 

কলকাতা ওপূর্ব মেদিনীপুর, বৃহস্পতিবার(খবর7দিন প্লাস):- বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রায় দেড় দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কোনও নির্দিষ্ট কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এরই মাঝে বৃহস্পতিবার চন্দ্রনাথ রথের দেহ কলকাতা থেকে তাঁর পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় আবেগঘন ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি বলেন, “আমি ভবানীপুরে না জিতলে হয়তো ওকে খুন হতে হতো না। আমি বিরোধী দলনেতা ছিলাম বলেই আমার পিএ হিসেবে ওকেও টার্গেট করা হয়েছে।”

শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে চন্দ্রনাথ রথের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, এই হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট জমা পড়বে এবং দোষীরা আইনের কঠোরতম শাস্তি পাবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দু’দিন পর বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে প্রকাশ্য রাস্তায় চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানো হয়। চার রাউন্ড গুলির মধ্যে বুকে, পেটে এবং মাথায় লাগে বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।ঘটনায় গাড়ির চালকও আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই মধ্যমগ্রামে পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আইনি পথেই এই ঘটনার মোকাবিলা করতে হবে।”

এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিজেপির দাবি, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতেই এই হামলা। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক যোগের কথা স্বীকার করা হয়নি।

চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকেই।

নবীনতর পূর্বতন