জয়ন্ত মন্ডল,ইলামবাজার,(খবর7দিন প্লাস):-
শোকের ভার বুকে নিয়েও জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ইলামবাজার ব্লকের বাতিকার পঞ্চায়েতের ইক্ষুসারা গ্রামের এক কিশোরী। শুক্রবার এমনই এক হৃদয়বিদারক অথচ অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা এলাকা।
জানা গিয়েছে, ইক্ষুসারা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আজাদ গত এক সপ্তাহ ধরে পায়ের তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। শুক্রবার সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিনই ছিল তাঁর মেয়ে আজিজা খাতুনের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন। বাবার মৃত্যুসংবাদে স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়ে সে। বাড়িতে তখন শোকের ছায়া, চলছে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি। কিন্তু সমস্ত দুঃখ, যন্ত্রণা ও মানসিক বিপর্যয়কে সামলে নিয়ে পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নেয় অভেদানন্দ বিদ্যাপীঠের এই ছাত্রী।
আজিজার পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছিল ইলামবাজারের চুনপলাশী উচ্চ বিদ্যালয়ে। কাকা শেখ মোজাম্মেল হক তাঁকে বাড়ি থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেন। শোকাহত মন নিয়েই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেয় সে।
আজিজার এই মানসিক দৃঢ়তা ও সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশীরা। অনেকের কথায়, “এমন পরিস্থিতিতেও পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত সত্যিই অসাধারণ। ওর ভবিষ্যৎ যেন উজ্জ্বল হয়, সেই কামনাই করছি।”
ব্যক্তিগত শোকের মাঝেও দায়িত্ব ও স্বপ্নকে অগ্রাধিকার দিয়ে আজিজা যে উদাহরণ স্থাপন করল, তা নিঃসন্দেহে সমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

