জয়ন্ত মন্ডল,বীরভূম(খবর7দিন প্লাস):- এ বছর বীরভূম জেলায় আলুর ফলন হয়েছে আশাতীত। মাঠ ভরে উঠেছে ফসলে, কিন্তু সেই খুশির আবহে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে বাজারের নিম্নমুখী দর। ফলে লাভের বদলে ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার প্রান্তিক চাষিরা। বিশেষ করে ইলামবাজার ব্লকের জয়দেব-কেন্দুলি অঞ্চলের সন্তোষপুর এলাকার চাষিদের কপালে এখন গভীর চিন্তার ভাঁজ।
চাষিদের দাবি, এক বস্তা (৫০ কেজি) আলু উৎপাদনে সার, বীজ এবং শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। অথচ পাইকারি বাজারে সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় গড়ে প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক চাষিই চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন। কেউ ব্যাঙ্ক বা স্বনির্ভর গোষ্ঠী থেকে ঋণ নিয়েছেন, আবার কেউ চাষের খরচ জোগাতে বন্ধক রেখেছেন ঘরের গয়না। বর্তমান বাজারদরে সেই ঋণ শোধ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এদিকে রাজ্য সরকার প্রতি কুইন্টাল আলু ৯৫০ টাকা দরে কেনার কথা ঘোষণা করলেও, অভিযোগ বীরভূমের বহু ব্লকে এখনও সেই সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া সেভাবে শুরু হয়নি। ফলে চাষিদের ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, দ্রুত প্রতিটি ব্লকে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র চালু করে সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে আলু কেনা হোক এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমানো হোক।
পাশাপাশি, বর্তমান লোকসানের কথা মাথায় রেখে কৃষি ঋণের সুদে ছাড় দেওয়া এবং কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর দাবিও তুলেছেন চাষিরা।
চাষিদের কথায়,“মাঠ ভরা আলু থাকলেও ঘরে খুশি নেই। রক্ত জল করা পরিশ্রম যেন জলের দামে বিকিয়ে যাচ্ছে।”
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ না হলে আগামী দিনে বীরভূমের কৃষি অর্থনীতি বড়সড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।



