সত্যনারায়ণ সিং,রানিগঞ্জ(খবর7দিন প্লাস):- পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার গঠনের পর ২০১৮ সালের রানিগঞ্জ রামনবমী হিংসার ঘটনাকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি মণীশ শর্মা রাজ্যের নতুন সরকারের কাছে ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা তুষ্টিকরণ ও দমনমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে রাজ্যের মানুষ গণতান্ত্রিক উপায়ে রায় দিয়েছেন। বিজেপিকে ক্ষমতায় এনে মানুষ শুধু সরকার পরিবর্তন করেননি, বরং ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন।
“রামভক্তদের উপর হামলা হয়েছিল”
মণীশ শর্মার দাবি, ২০১৮ সালে রানিগঞ্জে রামনবমী উপলক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে বের হওয়া শোভাযাত্রার উপর ইট-পাথর ও বোমা ছোড়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় বহু মানুষ আহত হন এবং কয়েকজনের মৃত্যুও হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, সেই সময় এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকও বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয়েছিলেন। অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং রামভক্ত ও হিন্দু সংগঠনের কর্মীদেরই হয়রানি করা হয়েছিল।
সিট ও বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি
ভিএইচপি জেলা সভাপতির দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হোক। পাশাপাশি একজন সৎ ও নিরপেক্ষ আইপিএস আধিকারিকের হাতে তদন্তভার দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনেরও দাবি তোলা হয়েছে, যাতে প্রকৃত সত্য সামনে আসে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা যায়।
“এবার ভয় ছাড়াই উৎসব পালন হবে”
মণীশ শর্মা বলেন, এখন সময় বদলেছে। রাজ্যে এমন সরকার এসেছে, যার কাছে মানুষের প্রত্যাশা তারা যেন কোনও ভয়, চাপ বা বাধা ছাড়াই নিজেদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন।
তিনি জানান, সনাতনী সমাজ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিল। খুব শীঘ্রই এই দাবিগুলি নিয়ে ভিএইচপি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি রাজ্য সরকারের কাছে লিখিত স্মারকলিপি জমা দেবে।
রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা
ভিএইচপির এই দাবির পর রানিগঞ্জ-সহ পশ্চিম বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০১৮ সালের রামনবমী হিংসার ঘটনা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

