নিজস্ব সংবাদদাতা,কাঁকসা(খবর7দিন প্লাস):-কর্মরত অবস্থায় এক গাড়িচালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার পানাগড় শিল্পতালুকে আদানি গ্যাস সংস্থার সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। মৃত কর্মীর পরিবার ও সহকর্মীরা ক্ষতিপূরণ এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন।
মৃতের নাম বাবলু হালদার (৫৫)। তিনি কাঁকসার কলোনি এলাকার বাসিন্দা এবং পানাগড় শিল্পতালুকে অবস্থিত আদানি গ্যাস সংস্থার একটি গ্যাসবাহী গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে গ্যাসের ক্যাপসুল বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন বাবলু হালদার। পূর্ব বর্ধমান জেলার রসুলপুরের কাছে একটি রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় গাড়িটি বিকল হয়ে পড়ে। পরে আরপিএফ গাড়িটি আটক করে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেয়। কাগজপত্র সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে গাড়িটি সেখানে আটকে রাখা হয় বলে জানা যায়। সেই কারণে সংস্থার নির্দেশে প্রায় প্রতিদিনই পানাগড় থেকে রসুলপুরে গিয়ে গাড়ির দেখভাল করতে হচ্ছিল তাঁকে।
শনিবারও তিনি রসুলপুরে যান। সেখানে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রয়োজনীয় সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে রাস্তার ধারে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রবিবার মৃতদেহ পানাগড়ে আনার পর পরিবারের সদস্যরা সংস্থার গেটের সামনে দেহ রেখে বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলেও সংস্থার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করা হয়নি। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় সমাধান সূত্র বের হয়। পরিবার সূত্রে দাবি, মৃতের স্ত্রীর জন্য আজীবন পেনশন, পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি এবং শেষকৃত্য ও শ্রাদ্ধের খরচ বহনের আশ্বাস দেওয়ার পর বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়।
এদিকে, সংস্থার অন্যান্য চালকরাও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, দূরপাল্লার কাজে বেরোলেও পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে না। অনেক গাড়ির অবস্থাও বেহাল। বারবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। শ্রমিকদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পতালুকে কর্মীদের নিরাপত্তা ও শ্রমিক কল্যাণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

