স্কুলের জমিতে কমিউনিটি হল,দুর্নীতি এবং রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির কারণে ব্যবহারের অযোগ্য ভবন; তদন্তের আশ্বাস বিডিওর

 

নিজস্ব সংবাদদাতা,কাঁকসা(খবর7দিন প্লাস)-পানাগড় বাজারে এলাকাবাসীর সুবিধার্থে নব্বইয়ের দশকে নির্মিত কমিউনিটি হল ঘিরে উঠল জমি দখল, রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পানাগড় বাজার হিন্দি হাই স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে হলটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় এবং তা ব্যবহারের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে কমিউনিটি হলটি নির্মিত হয়। এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে স্বল্প খরচে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে হলটি ব্যবহার করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এটি গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রথমদিকে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাতে এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল। পরে সরকার পরিবর্তনের পর কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির তত্ত্বাবধানে এর পরিচালনা চলতে থাকে।

এরই মধ্যে জমি সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে সামনে আসে নতুন তথ্য। অভিযোগ, যে জমিতে কমিউনিটি হলটি নির্মাণ করা হয়েছে, তা আসলে পানাগড় বাজার হিন্দি হাই স্কুলের মালিকানাধীন। এই নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে দীর্ঘদিন আইনি লড়াই চলে। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় স্কুলের পক্ষেই যায় এবং জমির অধিকার বিদ্যালয়ের হাতে ফিরে আসে।

তবে ভবন নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি সামনে আসায় দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে হলটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সদস্যরা হলটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ছে। বিদ্যুতের তার, পাখা, আলো-সহ একাধিক সরঞ্জাম উধাও। চারপাশে জঙ্গল ও বিষাক্ত পার্থেনিয়াম গাছ ছেয়ে যাওয়ায় পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হলটির কোনও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া বাবদ অর্থ আদায় হলেও সেই অর্থ ভবনের উন্নয়ন বা মেরামতের কাজে ব্যয় করা হয়নি। ফলে কোটি টাকার সম্পদ আজ কার্যত ধ্বংসের মুখে।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎবিহীন ও অরক্ষিত এই ভবন সমাজবিরোধীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। হলের ভিতর ও আশপাশে পড়ে থাকা মদের বোতল সেই অভিযোগকেই জোরালো করছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কমিউনিটি হলটির সংস্কার করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হোক এবং রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। এ বিষয়ে কাঁকসার বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে।


অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন বিডিও, এমনটাই জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

নবীনতর পূর্বতন