দুর্গাপূজা নিয়ে কাঁকসায় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা

 

নিজস্ব সংবাদদাতা,কাঁকসা(খবর7দিন প্লাস):-আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় আরও জোরদার করতে কাঁকসায় অনুষ্ঠিত হল গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক। মঙ্গলবার বিকেলে কাঁকসার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সভাকক্ষে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে কাঁকসা ব্লকের বিভিন্ন দুর্গাপূজা কমিটির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পুলিশ, প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে ব্লকের ৭৩টি অনুমতিপ্রাপ্ত এবং ৪১টি এখনও অনুমতি না পাওয়া দুর্গাপূজা কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মূলত দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল, নিরাপদ এবং শব্দদূষণমুক্ত রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা ও করণীয় তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কাঁকসার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ (ACP), ইনস্পেক্টর ইন-চার্জ (IC), ট্রাফিক গার্ডের আইসি ও ওসি, কাঁকসার বিডিও (BDO)-সহ প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিকরা।

ডিজে নিয়ে কড়া নির্দেশ প্রশাসনের

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূজা মণ্ডপ কিংবা শোভাযাত্রায় ডিজে বাজানো যাবে না। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। নির্দেশ অমান্য করে ডিজে বাজানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

পূজা কমিটিগুলিকে শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পরিচালনার জন্যও সচেতন করা হয়।

পূজার আচার-অনুষ্ঠান ও স্বাস্থ্যবিধিতে গুরুত্ব

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজা কমিটিগুলিকে ধর্মীয় রীতি ও প্রচলিত আচার-অনুষ্ঠান মেনে দুর্গাপূজা পরিচালনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যানজট সামলাতে স্বেচ্ছাসেবক রাখার পরামর্শ

বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড়ের পাশাপাশি যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে এমন এলাকাগুলিতে পূজা কমিটির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্রাফিক স্বেচ্ছাসেবক রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা, দর্শনার্থীদের নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা যাতে অকারণে অবরুদ্ধ না হয়, সেদিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।

অনুমতি ও NOC দ্রুত সংগ্রহের নির্দেশ

যে সমস্ত পূজা কমিটি এখনও পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি বা NOC সংগ্রহ করেনি, তাদের দ্রুত নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করে সমস্ত অনুমোদন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অনুমতি ছাড়া পূজা আয়োজনের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে যাতে কোনও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়।

সরকারি অনুদান নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে চলতি বছরে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজা কমিটিগুলিকে দেওয়া সরকারি অনুদান সংক্রান্ত নিয়ম, যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পূজা কমিটির সম্পাদক ও প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।

শুধু নির্দেশিকা দেওয়াই নয়, বৈঠকে বিভিন্ন পূজা কমিটির প্রতিনিধিদের বক্তব্যও শোনা হয়। নিজেদের এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ, নিরাপত্তা, যানজট, রাস্তা ও ভৌগোলিক সমস্যা-সহ বিভিন্ন বিষয় প্রশাসনের সামনে তুলে ধরেন পুজো উদ্যোক্তারা।

প্রশাসনের আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ফলে একদিকে যেমন প্রশাসনের নির্দেশিকা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, অন্যদিকে পুজো কমিটিগুলির মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলিও প্রশাসনের নজরে আসে।

বৈঠক শেষে বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনেই সাধারণ মানুষ যাতে আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই সমন্বয় সভা তাঁর দাবি, অধিকাংশ পূজা কমিটি পরিবেশ সচেতনতার পরিচয় দিয়ে ডিজে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং শব্দদূষণমুক্ত দুর্গাপূজার পক্ষেই মত দিয়েছে।

প্রশাসন ও পূজা কমিটিগুলির এই সমন্বয় আগামী দুর্গাপূজায় কাঁকসা ব্লকে নিরাপত্তা, যান নিয়ন্ত্রণ, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল

নবীনতর পূর্বতন