আশি-নব্বই দশকে জেলার গ্রামাঞ্চলে খেজুর পাতার পাটি ছিল বহুল ব্যবহৃত — ধান শুকানো থেকে শুরু করে শিশুদের পড়াশোনা কিংবা সন্ধ্যেবেলায় আড্ডার আসর, সর্বত্রই এই পাটির উপস্থিতি চোখে পড়ত। পাশাপাশি খেজুর পাতার তৈরি পাখাও ছিল এক সময়ের জনপ্রিয় উপকরণ। কিন্তু আজকের দিনে সেই ঐতিহ্য কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ।
বর্তমানে খেজুর পাতার পাটির জায়গা দখল করেছে আধুনিক শীতলপাটি, নলপাটি, চট-কার্পেট, পেপসি পাটি ও বিভিন্ন ধরনের সিন্থেটিক উপকরণ। এগুলোর সহজলভ্যতা ও টেকসই গুণ মানুষকে ক্রমশ দূরে সরিয়ে দিয়েছে প্রাকৃতিক উপকরণ থেকে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে একসময়ের সেই গ্রামীণ কারুশিল্প ও সংস্কৃতির ছোঁয়া।
গড়বেতার বড়ডাবচার গ্রামের টিয়া সার জানান,“আগে নিজ হাতে খেজুর পাতার পাটি বানাতাম। নিজেরা ব্যবহার করতাম, আবার বিক্রি করেও কিছু আয় হত। এখন আর কেউ খেজুরপাতার পাটি চায় না। প্লাস্টিকের মাদুর সহজে পাওয়া যায়, তাই আর বানানো হয় না। তবু মন চায় আবার সেই পুরনো কাজটা করতে।”
অন্যদিকে লাপুড়িয়ার রিমা পাল বলেন,“এক সময় এই অঞ্চলে খেজুরপাতার পাটি ও অন্যান্য সামগ্রী ছিল আমাদের জীবনের অঙ্গ। আজ তা নেই বললেই চলে। এটি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, তাই সরকার ও মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে খেজুর গাছ সংরক্ষণ ও পাটি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা উচিত।”তিনি আরও যোগ করেন “নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আধুনিকতার দাপটে আমরা নিজের সংস্কৃতিকেই হারিয়ে ফেলছি।”
প্রশ্ন থেকে যায় হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্যের প্রতি কি আবার মানুষের নতুন করে আগ্রহ জাগবে? খেজুর পাতার ত্যালায় কি ফিরে পাবে তার আগের কদর?
বাংলার সংস্কৃতির এই অমূল্য নিদর্শন সংরক্ষিত হবে কিনা, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।



