সত্যনারায়ণ সিং,রানিগঞ্জ(খবর7দিন প্লাস):-আগামী ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি। প্রতি বছর এই দিনে দলে দলে মানুষ পুণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে ছুটে আসেন রানিগঞ্জের বল্লভপুরস্থিত দামোদর নদীর ঘাটে। এই ঘিরেই বসে ঐতিহ্যবাহী মেলা। কিন্তু চলতি বছরে সেই পুণ্যস্নান নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
অভিযোগ, বালি উত্তোলনকারী সংস্থা কেকে মিনারেলস দামোদর নদীর ওপর অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করে নদীর স্বাভাবিক ধারা একেবারে মেজিয়া দিকের দিকে সরিয়ে দিয়েছে। মূল উদ্দেশ্য-নদীর মাঝখান পর্যন্ত ট্রাক নিয়ে গিয়ে বালি তোলা। এর ফলে বল্লভপুর ঘাটে কার্যত শুকিয়ে গিয়েছে নদীর প্রবাহ।
এই পরিস্থিতিতে শুধু পুণ্যস্নানই নয়, গুরুতর সংকটে পড়েছে এলাকার সবচেয়ে বড় শ্মশানঘাট। দীর্ঘদিন ধরে এখানে দাহকার্যের পর দামোদরের প্রবাহমান জলে অস্থি বিসর্জনের রীতি চলে আসছে। কিন্তু এখন নদীর ধারা না থাকায়, বাধ্য হয়ে গর্ত বা জল দাঁড়িয়ে থাকা গহ্বরে অস্থি বিসর্জন ও স্নান করতে হচ্ছে শোকাহত পরিবারগুলিকে। স্থানীয়দের মতে, এটি হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতির উপর সরাসরি আঘাত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর অতিরিক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন বালি উত্তোলনের ফলে একসময়ের প্রবাহমান দামোদর আজ প্রায় স্থির জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। অথচ পরিস্থিতি জেনেও প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ নীরব।
এ বিষয়ে বাঁকুড়ার মেজিয়া ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক (BL&LRO) জানান, “পাম্পে জল না পাওয়ায় হয়তো সাময়িকভাবে নদীর ধারা একদিকে করা হয়েছে।” তবে নদী বেঁধে ট্রাক চলাচলের রাস্তা তৈরির অভিযোগে তিনি বলেন, “তদন্ত করে দেখা হবে।”
হিন্দু ধর্মীয় আস্থায় আঘাতের অভিযোগ তুলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি মণীশ শর্মা বলেন,
“রানিগঞ্জের মতো ঐতিহাসিক শহরের প্রধান শ্মশানঘাটে গর্তে অস্থি বিসর্জন অত্যন্ত লজ্জাজনক। প্রশাসন অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে আমরা বাধ্য হব।”
স্থানীয় বল্লভপুর পঞ্চায়েত প্রধান মীনা ধীবর স্পষ্ট ভাষায় জানান,
“নদী বেঁধে বালি তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি শুধু পরিবেশ ধ্বংস নয়, ধর্মীয় আস্থার উপর চরম আঘাত। মকর সংক্রান্তির আগে এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব এবং প্রয়োজনে আন্দোলনে নামব।”
এদিকে, বিজেপির আসানসোল দক্ষিণ গ্রামীণ মণ্ডল–৪ সভাপতি পরিমল মাজি অভিযোগ করেন,
“তৃণমূল সরকারের আমলে সর্বত্র বেআইনি কার্যকলাপ চলছে। নদীর ধারা আটকে বালি তোলা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানাব এবং বিধানসভায় বিষয়টি তুলতে আমাদের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালকে অনুরোধ করব।”
মকর সংক্রান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবের মুখে দামোদরের এই করুণ দশা ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়। এখন দেখার, প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ করে নদীর স্বাভাবিক ধারা ও মানুষের ধর্মীয় অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারে।




