মহম্মদ শাহজাহান আনসারী,বাঁকুড়া(খবর7দিন প্লাস):-আজ শুক্রবার থেকে শুরু হল তিন দিনের মুকুটমণিপুর মেলা। খাতড়া মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে মুকুটমণিপুর পুলিশ ফাঁড়ি মাঠে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের আধিকারিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, আদিবাসী সংস্কৃতি ও লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই এই মেলার আয়োজন। তিন দিন ধরে চলা এই মেলায় আদিবাসী শিল্পীদের দলগত ও একক নৃত্য প্রদর্শনী থাকছে। পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় ও অতিথি শিল্পীদের অংশগ্রহণে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে শনিবার সকালে কংসাবতী জলাধারে নৌকা বাইচ ও নৌকা সজ্জা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও মেলায় রয়েছে এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি খাবারের স্টল এবং জেলার বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রীর স্টল।
জেলা তথা রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মুকুটমণিপুরে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। পর্যটন মরশুমে এই মেলা পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
তবে উদ্বোধনের প্রথম দিনেই ধরা পড়ে ভিন্ন চিত্র। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় মঞ্চের সামনে অধিকাংশ চেয়ারই ফাঁকা ছিল। দর্শকাসনে তেমন ভিড় দেখা যায়নি। স্থানীয় একটি স্কুল থেকে ছাত্রছাত্রীদের এনে অনুষ্ঠানে বসানো হয়। পর্যটকদের মধ্যেও মেলা নিয়ে বিশেষ উৎসাহ চোখে পড়েনি। এর জেরে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই মেলার আয়োজন কার্যত অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।
যদিও পর্যটক ও স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, প্রতি বছর মেলার তারিখ পরিবর্তনের কারণে ঠিকমতো প্রচার হয় না। ফলে অনেকেই আগে থেকে মেলার খবর জানতে পারেন না, যার প্রভাব ভিড়ের উপর পড়ছে।
এ বিষয়ে রাজ্যের খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি বলেন, “প্রতিবছরই এখানে প্রচুর পর্যটক আসেন। বিশেষ করে আদিবাসী সংস্কৃতির অনুষ্ঠান পর্যটকদের আকর্ষণ করে। চলতি বছর বিধানসভা ভোটের বছর হওয়ায় প্রশাসনের আধিকারিকরা নানা কাজে ব্যস্ত। এছাড়া শনিবার শালতোড়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সভা রয়েছে। এইসব কারণেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে। প্রতিবছরের গ্রিন ম্যারাথন এবার পরে করা হবে।”
খাতড়ার মহকুমা শাসক শুভ মোর্য জানান, “চলতি বছরে মেলার তারিখ গত বছরের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে। আজ উদ্বোধন হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে মুকুটমণিপুরে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। এলাকার মানুষ এই মেলার মাধ্যমে আনন্দ পাবেন।”
মেলার পরবর্তী দু’দিনে দর্শক ও পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষজন।




