কাঁকসায় দলীয় কর্মীদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদারের

 

নিজস্ব সংবাদদাতা, কাঁকসা,(খবর7দিন প্লাস):- ইডির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তৃণমূল কংগ্রেসের গালে ‘বড় থাপ্পড়’ পড়েছে বলে মন্তব্য করলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার। বৃহস্পতিবার কাঁকসায় দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ড. সুকান্ত মজুমদার বলেন, ইডির বিরুদ্ধে মামলায় লড়াই করার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নেওয়া দুই ‘তাবড়’ আইনজীবী কপিল সিব্বাল ও অভিষেক মনু সিংভিকে আদালতে দাঁড় করানো হয়েছিল। একজন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের হয়ে এবং অন্যজন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সওয়াল করেন। এত কিছুর পরেও সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা ছাড়া কিছু নয়।

তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাঝেমধ্যেই নন্দলালের প্রসঙ্গ টানতেন। এবার আয়নার সামনে দাঁড়ালে তিনি নন্দলালকেই দেখতে পাবেন। দুই গালে থাপ্পড় খেয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকার ফিরে এসেছে।

সুকান্তর অভিযোগ, প্রথম থেকেই তৃণমূল চেষ্টা করেছিল মামলাটিকে সুপ্রিম কোর্ট থেকে হাইকোর্টে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তাতে রাজি হয়নি। ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যে ভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সেই মামলায় স্থগিতাদেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রমাণ করে দিয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে ব্যবহার করে তদন্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন, যা আর সম্ভব হবে না।

এসআইআর নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে বিক্ষোভ, অবরোধ ও ভাঙচুর চলছে, তা নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, কোথায় কোথায় এই আন্দোলন হচ্ছে তা ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে। চোপড়ায় সবচেয়ে বেশি আন্দোলন হয়েছে, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মুসলিম ও ৩০ শতাংশ হিন্দু জনসংখ্যা। ফারাক্কা ও লালগোলাতেও বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা বসবাস করেন।

তার দাবি, সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের উদ্দেশ্য একটাই—বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানো। শুধু ভোটে জেতাই নয়, রাজ্যকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ তথা ‘ইসলামিক স্টেট’ বানানোর চেষ্টা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সেই কারণেই এসআইআর-এর বিরোধিতা করে বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

কয়েকদিন আগে কলকাতায় আইপ্যাকের দপ্তর ও সংস্থার কর্ণধারের বাড়িতে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে আইপ্যাকের অফিসে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক আলোড়ন শুরু হয়। এরপরই ইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্যের দায়ের করা মামলায় স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।


নবীনতর পূর্বতন