আসানসোলে ভূমিহার ব্রাহ্মণ সমাজের বার্ষিক পারিবারিক পুনর্মিলন, মিলনমেলায় ঐক্য ও অগ্রগতির বার্তা

 

জিশু হেব্রাম,আসানসোল(খবর7দিন প্লাস):-
রবিবার আসানসোলের কালিপাহাড়ি মোড় সংলগ্ন মা ঘাঘর বুড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো ভূমিহার ব্রাহ্মণ (ব্রাহ্মর্ষি) সমাজ কল্যাণ সংঘের পশ্চিম বর্ধমান জেলা শাখার বার্ষিক পারিবারিক পুনর্মিলন। এই মিলনমেলায় দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রায় দুই হাজারেরও বেশি ভূমিহার ব্রাহ্মণ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সম্প্রদায়ের আরাধ্য গুরু ভগবান পরশুরামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। ধর্মীয় আচার ও সাংস্কৃতিক আবহে গোটা অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ও বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ আনন্দ বর্ধন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি দয়াশঙ্কর রায়, সম্পাদক কল্যাণ কুমার সিং ওরফে মুন্না, কোষাধ্যক্ষ সুজিত কুমার সিং সহ উমেশ মিশ্র, রবি সিং, চুন্নু তিওয়ারি, নভলেশ সিং দুনিয়া রায়, কে কে শর্মা, পরশ রায়, ম্যানেজার রায়, মদন ঠাকুর সহ ভূমিহার সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট সদস্যরা।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতিথিরা সমাজকে আরও সংগঠিত, শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান করে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সংগঠনের সভাপতি দয়াশঙ্কর রায় এবং সম্পাদক কল্যাণ কুমার সিং জানান, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও গত তিন বছর ধরে তা আরও বৃহত্তর পরিসরে পারিবারিক পুনর্মিলনের রূপ পেয়েছে।

তাঁদের কথায়, “বিভিন্ন পদ ও পরিচয়ের কারণে আমাদের সম্প্রদায়ের অনেক সদস্য একে অপরকে ঠিকভাবে চেনেন না। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল সকলকে একত্রিত করা, পারস্পরিক পরিচয় গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত ও সুসংস্কৃত করে গড়ে তোলা।” পাশাপাশি সমাজের ইতিহাস ও পূর্বপুরুষদের অবদান সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তাঁরা জানান, ভূমিহার ব্রাহ্মণ সমাজকে জাতীয় স্তরে পরিচিত করা, আধুনিক শিক্ষা ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে সমাজ শুধু নিজেরাই নয়, অন্যান্য সম্প্রদায়ের জন্যও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে— এমনটাই মত উদ্যোক্তাদের।

সার্বিকভাবে এই জমকালো পারিবারিক পুনর্মিলন অনুষ্ঠান কেবলমাত্র সাংস্কৃতিক বন্ধনকে দৃঢ় করেনি, বরং ঐক্য, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে নতুন উদ্যম ও শক্তি সঞ্চার করেছে।


নবীনতর পূর্বতন