নিজস্ব সংবাদদাতা,পানাগড়(খবর7দিন প্লাস):-
পানাগড়ে দলীয় কর্মীসভা ও জনসমাবেশে যোগ দিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। মূলত ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে সামনে রেখে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি।
মহম্মদ সেলিমের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অরূপ বিশ্বাসকে “প্রমোট” করছেন এক বিশেষ কারণেই। তাঁর কটাক্ষ, “পার্থ চট্টোপাধ্যায় যদি দুর্নীতির এক উদাহরণ হন, তবে অরূপ বিশ্বাস সেই রাস্তা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছেন।” তিনি বলেন, পার্থর থেকেও টাকা রোজগারের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস।
ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সেলিম। ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, “যিনি ‘ক্রীড়া’ শব্দের বানানই ঠিকঠাক জানেন না, তাঁকে ক্রীড়ামন্ত্রী না রেখে শিক্ষামন্ত্রী করা উচিত।” একইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ‘বৃত্ত বসু’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর কাজ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মেসি কাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, “মেসি হোক বা ফুটবল, ক্রিকেট, হকি কিংবা ১০০ দিনের কাজ— তৃণমূলের হাতে পড়লেই তার সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী।” সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, তৃণমূলকে আর কোনওভাবেই জায়গা দেওয়া যাবে না। তাঁদের ফাঁদে পা দিলেই ক্ষতি অনিবার্য।
সেলিমের অভিযোগ, তৃণমূল আসলে খেলাধুলার উন্নয়নের জন্য কিছুই করছে না। বরং মেসির নাম ব্যবহার করে কালো টাকা সাদা করার ছক কষা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “খেলাধুলা এখানে উন্নয়নের হাতিয়ার নয়, লুটের ঢাল মাত্র।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল ও বিজেপির যোগসাজশে জেলা থেকে রাজ্য— সব স্তরের ক্রীড়া সংগঠন দখল করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলেই বাংলার খেলাধুলা আজ ধ্বংসের মুখে। মাঠে খেলা নেই, আছে শুধু কমিটি, পদ আর টাকার হিসেব। মুখ্যমন্ত্রী নিজের আত্মীয়-স্বজনদের একের পর এক কমিটিতে বসিয়ে উপার্জনের বন্দোবস্ত করে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
এদিন কাঁকসায় সারা ভারত ক্ষেতমজুর ও গ্রামীণ সম্মেলনের তৃতীয় রাজ্য সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশ্য সমাবেশে যোগ দেন মহম্মদ সেলিম। প্রথমে কাঁকসা হাটতলা থেকে একটি পদযাত্রা শুরু হয়, যা পানাগড় বাজার হয়ে পুরাতন কাঁকসা রোডে গিয়ে শেষ হয়। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় জনসভা।
বামেদের এই কর্মসূচিতে কাঁকসা ব্লক সহ আশপাশের এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ মিছিল ও সভায় অংশ নেন। বাম কর্মীদের দাবি, রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত।



