নিজস্ব সংবাদদাতা,কাঁকসা(খবর7দিন প্লাস):-ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) নামে একই বুথের ৩৭০ জন ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানোয় চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে কাঁকসার জাঠগড়িয়া এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে গলসি বিধানসভার অন্তর্গত জাঠগড়িয়া এলাকার ১৩ নম্বর বুথে। বিষয়টি ঘিরে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২৬০ জন। তার মধ্যে এক ধাক্কায় ৩৭০ জনকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। কারও নোটিশে লেখা রয়েছে—একই বাবার একাধিক ছেলে থাকায় সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আবার কারও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে নথিগত গোলযোগের কথা।
তবে গ্রামবাসীদের দাবি, তাঁরা সকলেই ওই গ্রামেরই স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁদের জন্ম এখানেই, এমনকি বাপ-ঠাকুরদারাও এই গ্রামেই জন্মেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও এখন তাঁদের বিপাকে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, বেছে বেছে সংখ্যালঘু ভোটারদেরই বেশি করে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।গ্রামের বাসিন্দা শেখ মনিরুল বলেন -
২০০২ সাল থেকেই আমাদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। তারপরেও আজ আমাদের সন্দেহের তালিকায় ফেলা হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ। শুনানির জন্য ৩০ কিলোমিটার দূরে যেতে বলা হয়েছে। এটা ইচ্ছাকৃত হয়রানি। এর বিরুদ্ধে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”
এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার অভিযোগ করে বলেন,
বিজেপি মনোনীত নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় ধর্মীয় বিভাজন করছে। শুরু থেকেই যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেছেন—একজন যোগ্য ভোটারের নামও বাদ গেলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। জাঠগড়িয়ার মতো প্রাচীন গ্রামের মানুষদেরও এখন শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই বলেন,
তৃণমূল ভয় পেয়েছে বলেই উল্টোপাল্টা কথা বলছে। নির্বাচন কমিশন অবৈধভাবে থাকা ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাত্র। যাঁরা প্রকৃত ও যোগ্য ভোটার, যাঁদের কাছে সঠিক নথি আছে, তাঁদের কারও নাম বাদ যাবে না। তৃণমূলের নাটক বাংলার মানুষ বুঝে গেছে।”
ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে জাঠগড়িয়ার এই ঘটনা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্ক ও আন্দোলনের রূপ নেবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।




