মোহাম্মদ শাহজাহান আনসারী,বাঁকুড়া(খবর7দিন প্লাস):-মানসিক দৃঢ়তার কাছে যে শারীরিক অসুস্থতাও হার মানে, তা আবারও প্রমাণ করল বাঁকুড়া জেলার ছাতনা ব্লকের কমলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক মেধাবী ছাত্রী। মাধ্যমিক পরীক্ষার ঠিক কয়েকদিন আগেই তীব্র পেটের যন্ত্রণায় অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় পরীক্ষার প্রথম দিন সোমবার সকালেই তাকে ছাতনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। কিন্তু হাসপাতালের শয্যায় শুয়েও তার চোখে-মুখে ছিল অটুট আত্মবিশ্বাস “আমি পারব।”
চিকিৎসকদের মতে বিশ্রাম ছিল জরুরি, তবুও পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্তে এক মুহূর্তের জন্যও টলমল করেনি ওই ছাত্রী। প্রশাসনের অনুমতি ও স্বাস্থ্য দফতরের সহযোগিতায় হাসপাতালের ওয়ার্ডেই বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। সেখানে বসানো হয় পরীক্ষার ডেস্ক। বিদ্যালয় থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত থেকে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই পরীক্ষা পরিচালনা করেন। পাশাপাশি চিকিৎসকরাও সারাক্ষণ নজরদারিতে ছিলেন, যাতে প্রয়োজনে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া যায়।
স্যালাইনের বোতল হাতে, অসুস্থ শরীর আর তীব্র যন্ত্রণার মধ্যেও প্রশ্নপত্র খুলে মনোযোগ দিয়ে উত্তর লেখে ছাত্রী এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত সকলেই। হাসপাতাল কর্মীদের মতে, এমন দৃশ্য তারা খুব কমই প্রত্যক্ষ করেছেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, পড়াশোনায় বরাবরই সে মেধাবী ও পরিশ্রমী। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও মনোবল অটুট রাখায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা গর্বিত। তাঁদের কথায়,
“এই ছাত্রী আজ শুধু নিজের জন্য নয়, অসংখ্য পরীক্ষার্থীর কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।”
বাঁকুড়ার এই সাহসী ছাত্রীর লড়াইয়ের কাহিনি এখন জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সমাজের নানা স্তরের মানুষ তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো বাধাই অজেয় নয়।

