জামুড়িয়ায় বিজেপির ‘এস.আই.আর চক্রান্ত’-এর বিরুদ্ধে তৃণমূলের পাল্টা শক্তি প্রদর্শন, কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মলয়–স্নেহাশীষের

 

সত্যনারায়ণ সিং,জামুড়িয়া(খবর7দিন প্লাস):-:বাংলা-বিরোধী বিজেপি অধীনস্থ কেন্দ্রীয় সরকারের কথিত এস.আই.আর চক্রান্ত-এর বিরুদ্ধে শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়ায় পাল্টা প্রতিবাদ সভা করল তৃণমূল কংগ্রেস। সভাস্থলে কাতারে কাতারে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড় চোখে পড়ে।

এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের আইন ও শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক, পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী, জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং, পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি, নেতা রূপেশ যাদব সহ তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দাপুটে নেতা-নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর জামুড়িয়া বিধানসভা এলাকায় বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। ঠিক তিন দিনের মাথায় একই বিধানসভা এলাকা থেকেই বিজেপির সেই সভার পাল্টা জবাব দিতে শুক্রবারের প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে তৃণমূল।

সভা থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী মলয় ঘটক কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক বঞ্চনামূলক সিদ্ধান্তের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন,
“দিন দিন মোদি সরকার যেভাবে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করে দিচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষ চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন। এর যোগ্য জবাব আমরা ২০২৬ সালের নির্বাচনে দেব।”
বিজেপিকে ‘মিথ্যাচারের দল’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেয় বিজেপি, কিন্তু ভোটের পর আর তাদের দেখা যায় না।” পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, “বিধানচন্দ্র রায় যদি বাংলার রূপকার হন, তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার নব রূপকার।”

পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপির পরিকল্পনা ছিল এস.আই.আর-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি নেতারা দাবি করেছিলেন, এস.আই.আর হলে এক কোটি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি বাদ পড়বে। কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশের পর বাস্তব চিত্র সামনে আসতেই বিজেপির মাথায় হাত পড়েছে।”

জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “সব চোরদের নিয়েই বিজেপি জামুড়িয়া বিধানসভায় মিটিং করছে।” তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ এখন সচেতন এবং জানে কে কাজ করে।
“জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের পাশে থাকার মতো প্রকল্প তৃণমূল কংগ্রেসের রয়েছে। সেই কারণেই আজও মানুষ তৃণমূলকেই চায়,” বলেন বিধায়ক।

সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জামুড়িয়ার কারখানাগুলিতে কোনও সিন্ডিকেট রাজ চলে না। বিজেপি যদি প্রমাণ করতে পারে যে এখানে সিন্ডিকেট চলছে, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।” তবে তিনি স্বীকার করেন, জামুড়িয়ায় বালি পরিবহণ হয়, কিন্তু তা সম্পূর্ণভাবে সরকারি অনুমতি ও ট্যাক্সের আওতায়।

সব মিলিয়ে, বিজেপির সভার পাল্টা জবাব দিতে জামুড়িয়ায় তৃণমূলের এই প্রতিবাদ সভা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নবীনতর পূর্বতন