মৃত্যুপুরী আনন্দপুর’ : ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৩ জন নিখোঁজ, মৃত বেড়ে ৮

বিশেষ সংবাদদাতা,(খবর7দিন প্লাস):-দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুর যেন এক ভয়ংকর মৃত্যুপুরী। মোমো তৈরির একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮-এ। তবে আশঙ্কা, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘটনার ৩২ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে যান দমকলমন্ত্রী। তাঁকে ঘিরে বিজেপির ‘গো ব্যাক’ স্লোগানে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। কিন্তু রাজনীতির আবহ ছাপিয়ে এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—কারখানায় কর্মরত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৩ জন শ্রমিক এখনও নিখোঁজ।

১৩ জন নিখোঁজ, আতঙ্কে পরিবার

সোমবার, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পৌঁছতেই ভেঙে পড়েন নিখোঁজদের পরিবার-পরিজনরা। অনেকেই ছুটে যান আনন্দপুরে। কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনের একটুখানি খবরের অপেক্ষায় দিন কাটছে তাঁদের।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন

  • পাঁশকুড়া: শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ পথিকর, তপন দোলুই
  • ময়না: বুদ্ধদেব জানা, সৌমিত্র মণ্ডল
  • তমলুক ব্লক: দেবাদিত্য দিন্দা, বিমল মাইতি, গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা, শশাঙ্ক জানা
  • নন্দকুমার: গড়গোদা এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ মাইতি

এই পরিবারগুলিতে এখন শুধুই কান্না, আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা। সময় যত গড়াচ্ছে, উদ্বেগ ততই বাড়ছে।

প্রশাসনের আশ্বাস

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষীন ইসমাইল জানিয়েছেন, নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের অনেকেই ইতিমধ্যেই আনন্দপুরে পৌঁছেছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনজন আধিকারিক ঘটনাস্থলে রয়েছেন। পুলিশ, মহকুমা শাসক ও অন্যান্য আধিকারিকরা পরিবারগুলির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলেছেন। সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কেন বেরোতে পারেননি কর্মীরা? পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্ট

এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে শুরু থেকেই উঠেছিল প্রশ্ন কারখানার গেট কি বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? নিখোঁজ কর্মীদের একাংশের পরিবার মালিকপক্ষের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল।

তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, বাইরে থেকে কেউ গেট বন্ধ করেনি। বরং ভয়াবহ আগুনের তাপে চালের বড় টিন ভেঙে পড়ে মূল গেট আটকে যায়, ফলে কারখানাটি কার্যত বদ্ধভূমিতে পরিণত হয়।

বাঁচার চেষ্টা, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি

পুলিশের অনুমান, আটকে পড়া কর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে গেট খোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শক্তি প্রয়োগ করেও ফুলের গেট সাজানোর কারখানার গেট খুলতে পারেননি। বিকল্প গেটের খোঁজ করেও পাননি। শেষ পর্যন্ত টিনের চাল ভেঙে বেরোনোর চেষ্টা চলাকালীন গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়, তাতেই ঝলসে মৃত্যু হয় ৮ জনের।

একই সময়, পাশের মোমো সংস্থার গুদামেও তৈরি হয় ভয়াবহ পরিস্থিতি। গুদামের সামনে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল। চাবি থাকলেও আগুনের লেলিহান শিখার কারণে গেটের কাছে পৌঁছতে পারেননি তিন কর্মী। সেখানে মজুত ছিল বিপুল পরিমাণ পাম তেল, যা আগুনে আরও ভয়ংকর রূপ নেয়।

শেষ চেষ্টা হিসেবে গেট লাগোয়া একটি অফিসঘরে আশ্রয় নেন তাঁরা। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বাঁচা সম্ভব হয়নি।

অজানা আশঙ্কা

মৃতের সংখ্যা ৮ হলেও নিখোঁজ ১৩ জনের ভাগ্য এখনও অজানা। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে আশঙ্কা


নবীনতর পূর্বতন